কাস্টমস আইন, ১৯৬৯ বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে পণ্য আমদানি, রপ্তানি ও ট্রানজিট নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান আইন। এটি স্থল, সমুদ্র বা বিমান পথে বাংলাদেশে আনা বা বাংলাদেশ থেকে নেওয়া সকল পণ্য এবং এই ধরনের পণ্য আমদানি, রপ্তানি বা পরিবহনে নিয়োজিত সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আইনটি কাস্টমস প্রশাসনের জন্য একটি ব্যাপক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে, যার মধ্যে রয়েছে কাস্টমস কর্মকর্তা নিয়োগ, পণ্য ঘোষণা, শুল্ক মূল্যায়ন ও প্রদান, পণ্য খালাস এবং চোরাচালান প্রতিরোধ। মূল প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে রয়েছে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ব্যক্তি, যানবাহন, জাহাজ ও প্রাঙ্গণ তল্লাশির ক্ষমতা (ধারা ১৫৫-১৬০), সন্দেহভাজন চোরাচালান পণ্য জব্দ এবং চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের আটক। আইনটি শুল্ক উদ্দেশ্যে পণ্য মূল্যায়ন, কাস্টমস ট্যারিফের অধীনে পণ্য শ্রেণিবিভাগ এবং ছাড় ও ফেরতের পদ্ধতি নির্ধারণ করে। কাস্টমস অপরাধের শাস্তির মধ্যে রয়েছে পণ্য বাজেয়াপ্তকরণ, জরিমানা ও কারাদণ্ড (চোরাচালানের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর, নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য ন্যূনতম শাস্তি সহ)। আইনটি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কাস্টমস আপীল কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীল ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে। উল্লেখযোগ্য বিধানগুলির মধ্যে রয়েছে লাগেজ বিধি, পণ্যের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট, করযোগ্য পণ্যের গুদামজাতকরণ এবং বিশেষ কাস্টমস শাসনব্যবস্থাসহ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা। আইনটি সংশোধন: পূর্বে 'বর্তমানে বলবৎ' বলা হয়েছিল কিন্তু কাস্টমস আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৭ নং আইন) দ্বারা এই আইন রহিত করা হয়েছে। এই আইনটি বাংলাদেশের কাস্টমস ব্যবস্থার ভিত্তি হিসাবে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রয়ে গেছে।
পূর্ণ পাঠ · প্রধান ধারাসমূহ
§ 1সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, বিস্তৃতি ও কার্যকারিতা
§ 2সংজ্ঞা
§ 2Aঅন্যান্য আইনের উপর এই আইনের প্রাধান্য
§ 3শুল্ক কর্মকর্তা নিয়োগ
§ 4শুল্ক কর্মকর্তার ক্ষমতা ও কর্তব্য
§ 5ক্ষমতা হস্তান্তর
§ 6শুল্ক কর্মকর্তার কার্য অর্পণ
§ 7শুল্ক কর্মকর্তাকে সহায়তা
§ 8জুরি বা মূল্যায়নকারী হিসাবে সেবা হইতে অব্যাহতি
§ 9শুল্ক বন্দর, শুল্ক বিমানবন্দর ইত্যাদি ঘোষণা
§ 10অবতরণ স্থান এবং শুল্ক স্টেশনের সীমা নির্ধারণের ক্ষমতা
§ 11গুদামজাতকরণ স্টেশন ঘোষণার ক্ষমতা
§ 12পাবলিক গুদাম নিয়োগের ক্ষমতা
§ 13প্রাইভেট গুদামের লাইসেন্স
§ 14শুল্ক কর্মকর্তার জাহাজে আরোহণ ও অবতরণের স্টেশন
§ 15নিষেধাজ্ঞা
§ 16পণ্য আমদানি ও রপ্তানি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার ক্ষমতা
§ 17১৫ বা ১৬ ধারা লঙ্ঘনে আমদানিকৃত পণ্য আটক ও বাজেয়াপ্তকরণ
§ 18শুল্কযোগ্য পণ্য
§ 18Aপ্রতিকার শুল্ক আরোপ
§ 18Bএন্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ
§ 18C১৮ক বা ১৮খ ধারার অধীনে শুল্ক না আরোপ
§ 18Dপ্রতিকার বা এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে আপিল
§ 18Eসুরক্ষা শুল্ক আরোপ
§ 19শুল্ক হইতে অব্যাহতি দেওয়ার সাধারণ ক্ষমতা
§ 20ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শুল্ক হইতে অব্যাহতি
§ 21শুল্ক না লইয়া পণ্য ডেলিভারি ও শুল্ক ফেরতের ক্ষমতা
§ 22বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের পুনঃআমদানি
§ 23পরিত্যক্ত ও ধ্বংসাবশেষ পণ্য
§ 24শুল্কমুক্ত রপ্তানির জন্য খাদ্য ও মালামাল
§ 25নির্ধারণের উদ্দেশ্যে পণ্যের মূল্য
§ 25Aপ্রি-শিপমেন্ট পরিদর্শন সংস্থা
§ 25Bঐচ্ছিক প্রি-শিপমেন্ট পরিদর্শন
§ 25Cপ্রি-শিপমেন্ট পরিদর্শন সেবা চার্জ
§ 26নথি পেশের দাবি
§ 26Aনথি সম্পর্কিত অতিরিক্ত ক্ষমতা
§ 26Bনথি ও রেকর্ড দখল ও সংরক্ষণ
§ 26Cঅনুসন্ধানের সময় প্রাপ্ত নথির অনুলিপি
§ 26Dঅনুসন্ধানের সময় প্রাপ্ত নথি ও পণ্য সংরক্ষণ
§ 27ক্ষতিগ্রস্ত, নষ্ট বা ধ্বংস পণ্যের শুল্ক হ্রাস
§ 28আমদানিকৃত স্পিরিট পরীক্ষা ও বিকৃতকরণের ক্ষমতা
§ 29বিল অফ এন্ট্রি বা বিল অফ এক্সপোর্ট সংশোধনের সীমাবদ্ধতা
§ 30আমদানি পণ্যের শুল্ক হার, মূল্য ও বিনিময় হার নির্ধারণের তারিখ
§ 30Aমূল্য ও কার্যকর শুল্ক হার
§ 31রপ্তানি শুল্ক নির্ধারণের তারিখ
§ 32মিথ্যা বিবৃতি, ত্রুটি ইত্যাদি
§ 33ছয় মাসের মধ্যে ফেরত দাবি
§ 34শুল্ক ও চার্জের জমা ও চলতি হিসাব
§ 35আমদানিকৃত পণ্যের রপ্তানি ড্রব্যাক
§ 36আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে ব্যবহারিত পণ্যের ড্রব্যাক
কাস্টমস আইন, ১৯৬৯ বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে পণ্য আমদানি, রপ্তানি ও ট্রানজিট নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান আইন। এটি স্থল, সমুদ্র বা বিমান পথে বাংলাদেশে আনা বা বাংলাদেশ থেকে নেওয়া সকল পণ্য এবং এই ধরনের পণ্য আমদানি, রপ্তানি বা পরিবহনে নিয়োজিত সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আইনটি কাস্টমস প্রশাসনের জন্য একটি ব্যাপক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে, যার মধ্যে রয়েছে কাস্টমস কর্মকর্তা নিয়োগ, পণ্য ঘোষণা, শুল্ক মূল্যায়ন ও প্রদান, পণ্য খালাস এবং চোরাচালান প্রতিরোধ। মূল প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে রয়েছে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ব্যক্তি, যানবাহন, জাহাজ ও প্রাঙ্গণ তল্লাশির ক্ষমতা (ধারা ১৫৫-১৬০), সন্দেহভাজন চোরাচালান পণ্য জব্দ এবং চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের আটক। আইনটি শুল্ক উদ্দেশ্যে পণ্য মূল্যায়ন, কাস্টমস ট্যারিফের অধীনে পণ্য শ্রেণিবিভাগ এবং ছাড় ও ফেরতের পদ্ধতি নির্ধারণ করে। কাস্টমস অপরাধের শাস্তির মধ্যে রয়েছে পণ্য বাজেয়াপ্তকরণ, জরিমানা ও কারাদণ্ড (চোরাচালানের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর, নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য ন্যূনতম শাস্তি সহ)। আইনটি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কাস্টমস আপীল কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীল ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে। উল্লেখযোগ্য বিধানগুলির মধ্যে রয়েছে লাগেজ বিধি, পণ্যের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট, করযোগ্য পণ্যের গুদামজাতকরণ এবং বিশেষ কাস্টমস শাসনব্যবস্থাসহ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা। আইনটি সংশোধন: পূর্বে 'বর্তমানে বলবৎ' বলা হয়েছিল কিন্তু কাস্টমস আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৭ নং আইন) দ্বারা এই আইন রহিত করা হয়েছে। এই আইনটি বাংলাদেশের কাস্টমস ব্যবস্থার ভিত্তি হিসাবে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রয়ে গেছে।