সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ বাংলাদেশের সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা, প্রাসঙ্গিকতা ও প্রমাণিকতা নির্ধারণকারী প্রধান আইন। এটি সকল আদালত — সুপ্রীম কোর্ট থেকে অধস্তন আদালত — এবং সামরিক আদালতে প্রযোজ্য (নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম সহ)। আইনটি তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: প্রথম ভাগে সাক্ষ্যের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে স্বীকারোক্তি, বিবৃতি, বিশেষজ্ঞ মতামত ও চরিত্রের সাক্ষ্যের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে সাক্ষ্য প্রমাণের পদ্ধতি — মৌখিক ও দলিলভিত্তিক সাক্ষ্য — এবং দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণের নিয়মাবলী বর্ণিত হয়েছে। তৃতীয় ভাগে সাক্ষ্য উপস্থাপন ও বাধা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, যার মধ্যে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও জেরার বিধান অন্তর্ভুক্ত। আইনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে: মৃত ব্যক্তির বিবৃতির প্রাসঙ্গিকতা, পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তির অগ্রহণযোগ্যতা, এবং ইলেকট্রনিক সাক্ষ্যের প্রাসঙ্গিকতা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংশোধনী। আইনটি ১৮৭২ সালে প্রণীত হলেও এখনও বলবৎ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি।
পূর্ণ পাঠ · প্রধান ধারাসমূহ
§ 1সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, ব্যাপ্তি ও কার্যকর হওয়া
এই আইন সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ নামে পরিচিত হইবে। ইহা সমগ্র বাংলাদেশে বিস্তৃত হইবে এবং বাংলাদেশের সকল বিচারিক কার্যক্রমে প্রযোজ্য হইবে। ইহা ১৮৭২ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তারিখে কার্যকর হইবে।
§ 2aব্যাপ্তি
ইহা সমগ্র বাংলাদেশে বিস্তৃত হইবে এবং বাংলাদেশের সকল বিচারিক কার্যক্রমে প্রযোজ্য হইবে।
§ 3aআইনের কার্যকর হওয়া
ইহা ১৮৭২ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তারিখে কার্যকর হইবে।
§ 2[বাদ দেওয়া]
[বাদ দেওয়া]
§ 3ব্যাখ্যা-দফা
এই আইনে, প্রসঙ্গ অন্যথা না করিলে,— “আদালত” বলিতে বিচারকগণ ও জুরিগণ সকল ব্যক্তিকে বুঝায়, যাহারা আইনত সাক্ষ্য গ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত; “তথ্য” বলিতে নিম্নলিখিত সমস্ত বিষয় বুঝায়— প্রথমত—যে কোনো কাজ, ঘটনা বা অবস্থা সম্পর্কে আদালতের নিকট জ্ঞাত বা প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন; দ্বিতীয়ত—প্রথমত উল্লিখিত যে কোনো বিষয় সম্পর্কে আদালতে দেওয়া যেকোনো বিবৃতি; এইরূপ বিবৃতিগুলি এই আইনে সাক্ষ্য নামে উল্লিখিত; “প্রাসঙ্গিক”—একটি তথ্য অপর একটি তথ্যের সহিত প্রাসঙ্গিক বলিয়া গণ্য হইবে যদি না এই আইনে অন্যথায় প্রদান করা হয়; “আদালতের তথ্য” বলিতে আদালত কর্তৃক জ্ঞাত সকল তথ্য বুঝায়—প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর মধ্যে বিভক্ত; প্রথম শ্রেণী—আদালতের নিকট যে কোনো বিষয়ে দেওয়া কোনো বিবৃতি; দ্বিতীয় শ্রেণী—আদালতের নিকট উত্পাদিত সকল দলিল (দলিলের অংশ ব্যতীত); “প্রমাণ” বলিতে নিম্নলিখিত সকল প্রকার সাক্ষ্য বুঝায়— প্রথমত—মৌখিক সাক্ষ্য; দ্বিতীয়ত—দলিল প্রমাণ।
§ 4“প্রমেয়”, “আদালত প্রমেয় বলিয়া মনে করিবে”, “চূড়ান্ত প্রমাণ”
“প্রমেয়”—একটি সত্য এমনভাবে প্রমাণিত বলিয়া গণ্য হইবে যে যুক্তিসঙ্গত ব্যক্তিরা তাহাতে সন্দেহ করিবে না, অথবা আদালত একে একটি অকাট্য সত্য বলিয়া মেনে নিতে বাধ্য থাকিবে। “আদালত প্রমেয় বলিয়া মনে করিবে”—যখনই এই আইনে নির্দেশ দেওয়া হয় যে আদালত একটি তথ্য প্রমেয় বলিয়া মনে করিবে, তখন আদালত সেই তথ্যটি বিদ্যমান বলিয়া ধরে নিতে বাধ্য থাকিবে, যদি না বিপরীত প্রমাণিত হয়। “চূড়ান্ত প্রমাণ”—যখন একটি তথ্য এই আইনে অপরটির চূড়ান্ত প্রমাণ বলিয়া ঘোষিত হয়, তখন আদালত অন্য কোনো তথ্য প্রমাণের অনুমতি দিবে না যা অস্তিত্বহীন প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে প্রদর্শিত হয়।
§ 5a“আদালত প্রমেয় বলিয়া মনে করিবে”
যখনই এই আইনে নির্দেশ দেওয়া হয় যে আদালত একটি তথ্য প্রমেয় বলিয়া মনে করিবে, তখন আদালত সেই তথ্যটি বিদ্যমান বলিয়া ধরে নিতে বাধ্য থাকিবে, যদি না বিপরীত প্রমাণিত হয়।
§ 8a“চূড়ান্ত প্রমাণ”
যখন একটি তথ্য এই আইনে অপরটির চূড়ান্ত প্রমাণ বলিয়া ঘোষিত হয়, তখন আদালত অন্য কোনো তথ্য প্রমাণের অনুমতি দিবে না যা অস্তিত্বহীন প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে প্রদর্শিত হয়।
§ 5প্রাসঙ্গিক ব্যতীত অন্য তথ্যের সাক্ষ্য দেওয়া যাইবে না
সাক্ষ্য কেবলমাত্র সেই সকল তথ্য সম্পর্কে দেওয়া যাইবে যাহা এই আইনের কোনো বিধান দ্বারা প্রাসঙ্গিক বলিয়া ঘোষিত হয়, এবং বিবাদী পক্ষের মধ্যে বিতর্কিত কোনো বিষয় সম্পর্কে অন্য কোনো তথ্য আদালতে সাক্ষ্য হিসাবে দেওয়া যাইবে না।
§ 6একই লেনদেনের অংশ তথ্য
একটি লেনদেনের অংশ গঠনকারী তথ্যগুলি, ঘটনা বা অবস্থার সহিত একই লেনদেনের অংশ কিনা, প্রাসঙ্গিক।
§ 7ঘটনার কারণ ও পরিণতি প্রদর্শনকারী তথ্য
একটি ঘটনার কারণ, কারণ বা কারণসমূহের মধ্যে যে কোনোটি প্রদর্শনকারী তথ্যগুলি, অথবা ঘটনা দ্বারা প্রভাবিত বা সৃষ্ট, সেই ঘটনার পরিণতি প্রদর্শনকারী তথ্যগুলি প্রাসঙ্গিক।
§ 8উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি
কোনো ঘটনার সংঘটনে উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি, পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আচরণ প্রদর্শনকারী যেকোনো তথ্য প্রাসঙ্গিক, যদি এইরূপ আচরণ ঘটনার সহিত সম্পর্কিত হয়। উদ্দেশ্য বা জ্ঞান প্রমাণের জন্য বা কোনো ঘটনার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আচরণ প্রাসঙ্গিক যখন এটি ঘটনা বা ঘটনার পক্ষগণের সহিত সংযুক্ত হয়।
§ 9পরিচয় স্থাপন ও ব্যাখ্যা প্রদানকারী তথ্য
কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর পরিচয় স্থাপনের জন্য অথবা কোনো তথ্যের ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় বা উপকারী তথ্যগুলি প্রাসঙ্গিক, যখন এইরূপ তথ্য সরাসরি প্রাসঙ্গিক না হয়।
§ 10ষড়যন্ত্রকারীদের কার্য ও বিবৃতি
কোনো ফৌজদারি ষড়যন্ত্র প্রমাণিত হইলে, ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে একজনের দ্বারা ষড়যন্ত্রের সাধারণ উদ্দেশ্য সম্পর্কে কৃত বা বলা কোনো কিছুই সকল ষড়যন্ত্রকারীর বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক এবং প্রমাণযোগ্য, যাহা ষড়যন্ত্র প্রমাণের পর বা পূর্বে কৃত হউক না কেন।
§ 11প্রাসঙ্গিকতা স্থাপন বা খণ্ডনকারী তথ্য
তথ্যগুলি প্রাসঙ্গিক না হইলেও, যদি সেগুলি— (ক) অন্য কোনো তথ্যের অস্তিত্ব প্রমাণ বা খণ্ডন করে, অথবা (খ) একটি তথ্যের সম্ভাব্যতা বা অসম্ভাব্যতা প্রদর্শন করে, এবং বিতর্কিত বা প্রাসঙ্গিক তথ্যের সহিত সংযুক্ত থাকে, তবে সেগুলি প্রাসঙ্গিক।
§ 12ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য তথ্য
দেওয়ানি মামলায় ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য, ক্ষতির প্রকৃতি ও পরিমাণ সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য প্রাসঙ্গিক।
§ 13সম্পত্তির অধিকার বা দখল সম্পর্কিত তথ্য
সম্পত্তির অস্তিত্ব, প্রকৃতি বা ব্যাপ্তি বা সম্পত্তির অধিকার বা দখল সম্পর্কিত তথ্যগুলি প্রাসঙ্গিক।
§ 14অবস্থা, অভ্যাস ইত্যাদি প্রদর্শনকারী তথ্য
এমন কোনো তথ্যের অস্তিত্ব যা কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানের অবস্থা বা অভ্যাস প্রদর্শন করে, এবং যা একটি ঘটনার সংঘটনের সম্ভাব্যতা বা অসম্ভাব্যতা নির্ধারণের জন্য প্রাসঙ্গিক।
§ 15একই সিরিজের ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য
একই সিরিজের অংশ গঠনকারী ঘটনা সম্পর্কিত তথ্যগুলি প্রাসঙ্গিক, যখন প্রশ্নটি একটি নির্দিষ্ট ঘটনার সংঘটন সম্পর্কে এবং এই ঘটনা একই সিরিজের অন্যান্য ঘটনার সহিত সংযুক্ত।
§ 16প্রাসঙ্গিক সীমারেখা নির্ধারণ
যখন একটি তথ্যের অস্তিত্ব প্রাসঙ্গিক, বা একটি তথ্যের অনুপস্থিতি প্রাসঙ্গিক, তখন আদালত সিদ্ধান্ত নিবে যে একটি তথ্যের সহিত অপর তথ্যের সংযোগ কতদূর প্রাসঙ্গিক।
§ 17স্বীকারোক্তি
একটি স্বীকারোক্তি একটি বিবৃতি যা একটি দেওয়ানি বা ফৌজদারি কার্যধারায় প্রাসঙ্গিক তথ্যের অস্তিত্ব স্বীকার করে।
§ 18পক্ষগণের বিবৃতি
একটি দেওয়ানি মামলায়, বিবাদী পক্ষের মধ্যে যেকোনো পক্ষের বিবৃতি প্রাসঙ্গিক এবং তাহার বিরুদ্ধে প্রমাণযোগ্য।
§ 19aমামলা বা প্রতিনিধি হিসাবে
প্রতিনিধি হিসাবে মামলা করা বা মামলার মুখোমুখি হওয়া পক্ষগণের বিবৃতি প্রাসঙ্গিক।
§ 24aবিষয়বস্তুতে স্বার্থসম্পন্ন পক্ষ কর্তৃক
(1)মামলার বিষয়বস্তুতে কোনো মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থসম্পন্ন ব্যক্তির বিবৃতি;
(2)যে পক্ষের নিকট হইতে মামলার পক্ষগণ বিষয়বস্তুতে তাহাদের স্বার্থ লাভ করিয়াছেন, এরূপ ব্যক্তির বিবৃতি।
§ 25aযাহার নিকট হইতে স্বার্থ প্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক
যাহার নিকট হইতে মামলার পক্ষগণ বিষয়বস্তুতে তাহাদের স্বার্থ লাভ করিয়াছেন, এরূপ ব্যক্তির বিবৃতি প্রাসঙ্গিক।
§ 19দলিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত বিবৃতি
যখন একটি দলিলের বিষয়বস্তু বা অস্তিত্ব একটি প্রশ্ন, তখন দলিল সম্পর্কে কোনো ব্যক্তির বিবৃতি প্রাসঙ্গিক, যদি তা দলিলের অস্তিত্ব বা বিষয়বস্তু সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে।
§ 20স্বীকারোক্তি সত্য স্বীকার করে
একটি স্বীকারোক্তি সত্য স্বীকার করে এবং এটি আইনগত প্রভাব সহকারে প্রমাণ হিসাবে গৃহীত হয়।
§ 21আইনগত স্বীকৃতি
একটি স্বীকারোক্তি আইনত স্বীকৃত হয় এবং এটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসাবে বিবেচিত হয়।
§ 22দলিলভুক্ত স্বীকারোক্তি
যখন একটি স্বীকারোক্তি লিখিত আকারে থাকে, তবে সেই স্বীকারোক্তির বিষয়বস্তু প্রমাণের জন্য শুধুমাত্র লিখিত দলিলটিই প্রদর্শন করা আবশ্যক, মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
§ 22Aমৌখিক স্বীকারোক্তি যখন দলিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত
যখন কোনো মৌখিক স্বীকারোক্তি একটি লিখিত দলিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে করা হয়, তাহা শুধুমাত্র তখনই প্রমাণযোগ্য যখন দলিলটির উত্পাদন সম্ভব না হয়।
§ 23মধ্যস্থতা সম্পর্কিত তথ্য
একটি মামলায় মধ্যস্থতার সময় বলা বা কৃত কোনো কিছুই প্রাসঙ্গিক নয়, যদি না তা মধ্যস্থতার বাইরে পৃথকভাবে স্বীকারোক্তি হিসাবে প্রমাণিত হয়।
§ 24মিথ্যা স্বীকারোক্তির সীমাবদ্ধতা
একটি স্বীকারোক্তি আদালতে প্রমাণযোগ্য নয় যদি এটি মিথ্যা বা জোরপূর্বক প্রাপ্ত হয়।
§ 25ফৌজদারি মামলায় পুলিশের নিকট স্বীকারোক্তি
ফৌজদারি মামলায় পুলিশ কর্মকর্তার নিকট কোনো ব্যক্তির স্বীকারোক্তি প্রমাণযোগ্য নয়।
§ 26পুলিশ হেফাজতে স্বীকারোক্তি
পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে কোনো ব্যক্তির স্বীকারোক্তি প্রমাণযোগ্য নয়, যদি না তা কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে করা হয়।
§ 27স্বীকারোক্তির ফলে আবিষ্কৃত তথ্য
যখন কোনো ব্যক্তি পুলিশ হেফাজতে আবদ্ধ অবস্থায় স্বীকারোক্তির মাধ্যমে কোনো তথ্য আবিষ্কারের দিকে পরিচালিত করে, সেই পরিমাণ স্বীকারোক্তি প্রমাণযোগ্য।
§ 28প্রলোভনে স্বীকারোক্তি
যদি কোনো স্বীকারোক্তি প্রলোভন, হুমকি বা প্রতিশ্রুতির ফলে পাওয়া যায়, তবে তা স্বেচ্ছায় এবং সত্য বলিয়া প্রমাণিত না হইলে প্রমাণযোগ্য নয়।
§ 29কারাগারে স্বীকারোক্তি
কারাগারে বা অন্যান্য হেফাজতে স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছায় হইলে প্রমাণযোগ্য।
§ 30সহ-অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি
একই অপরাধের জন্য একযোগে বিচারাধীন সহ-অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি অন্যান্য সহ-অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণযোগ্য, যদি তা স্বেচ্ছায় হয় এবং মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়।
§ 31স্বীকারোক্তি বাধ্যতামূলক নয়
একটি স্বীকারোক্তি বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসাবে প্রমাণযোগ্য এবং আদালত সেই অনুযায়ী ওজন দিবে।
§ 32মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তির বিবৃতি
মৃত, অনুপস্থিত বা সাক্ষ্য দিতে অক্ষম ব্যক্তির বিবৃতি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক— (ক) মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিবৃতি; (খ) ব্যবসার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কৃত বিবৃতি; (গ) বিবৃতি প্রদানকারীর স্বার্থের বিরুদ্ধে বিবৃতি; (ঘ) জনগুরুত্বপূর্ণ অধিকার বা প্রথা সম্পর্কে মতামত; (ঙ) রক্ত, বিবাহ বা অন্যান্য সম্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কিত বিবৃতি; (চ) পারিবারিক বিষয় সম্পর্কিত দলিলে উল্লিখিত বিবৃতি; (ছ) কয়েকজন ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি।
§ 33aযখন মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত
(1)যখন বিবৃতিটি ব্যক্তি কর্তৃক তাহার মৃত্যুর কারণ বা মৃত্যুর দিকে পরিচালিত পরিস্থিতি সম্পর্কে করা হয়, তখন সেই বিবৃতি প্রাসঙ্গিক।
§ 42aঅথবা ব্যবসার প্রক্রিয়ায় কৃত
(2)যখন বিবৃতিটি এইরূপ ব্যক্তি কর্তৃক ব্যবসার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় করা হয়, তখন তাহা প্রাসঙ্গিক।
§ 43aঅথবা বিবৃতিকারীর স্বার্থের বিরুদ্ধে
(3)যখন বিবৃতিটি বিবৃতি প্রদানকারীর আর্থিক বা মালিকানা স্বার্থের বিরুদ্ধে হয়, তাহা প্রাসঙ্গিক।
§ 44aঅথবা জনগুরুত্বপূর্ণ অধিকার বা প্রথা সম্পর্কে মতামত প্রদান করে
(4)যখন বিবৃতিটি এইরূপ ব্যক্তির মতামত প্রদান করে, তাহা প্রাসঙ্গিক।
§ 45aঅথবা সম্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কিত
(5)যখন বিবৃতিটি রক্ত, বিবাহ বা দত্তক সম্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কিত হয়, তাহা প্রাসঙ্গিক।
§ 46aঅথবা উইল বা পারিবারিক বিষয়ের দলিলে কৃত
(6)যখন বিবৃতিটি রক্ত, বিবাহ বা দত্তক সম্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কিত হয় এবং উইল বা পারিবারিক বিষয়ের দলিলে থাকে, তাহা প্রাসঙ্গিক।
§ 47aঅথবা ধারা ১৩ এর খণ্ড (ক) এ উল্লিখিত লেনদেনের দলিলে
(7)যখন বিবৃতিটি কোনো দলিল, উইল বা অন্যান্য দলিলে থাকে, তাহা প্রাসঙ্গিক।
§ 48aঅথবা কয়েকজন ব্যক্তি কর্তৃক কৃত এবং বিবাদ্য বিষয় সম্পর্কিত অনুভূতি প্রকাশ করে
(8)যখন বিবৃতিটি কয়েকজন ব্যক্তি কর্তৃক কৃত হয় এবং বিবাদ্য বিষয় সম্পর্কিত অনুভূতি প্রকাশ করে, তাহা প্রাসঙ্গিক।
§ 33পূর্ববর্তী কার্যধারায় সাক্ষ্য
পূর্ববর্তী আইনানুগ কার্যধারায় নেওয়া সাক্ষ্য, যখন সাক্ষী মৃত, অনুপস্থিত বা সাক্ষ্য দিতে অক্ষম, তখন পরবর্তী কার্যধারায় প্রাসঙ্গিক।
§ 34হিসাবের বইতে বিবৃতি
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রক্ষিত হিসাবের বইতে বিবৃতিগুলি প্রাসঙ্গিক।
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ বাংলাদেশের সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা, প্রাসঙ্গিকতা ও প্রমাণিকতা নির্ধারণকারী প্রধান আইন। এটি সকল আদালত — সুপ্রীম কোর্ট থেকে অধস্তন আদালত — এবং সামরিক আদালতে প্রযোজ্য (নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম সহ)। আইনটি তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: প্রথম ভাগে সাক্ষ্যের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে স্বীকারোক্তি, বিবৃতি, বিশেষজ্ঞ মতামত ও চরিত্রের সাক্ষ্যের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে সাক্ষ্য প্রমাণের পদ্ধতি — মৌখিক ও দলিলভিত্তিক সাক্ষ্য — এবং দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণের নিয়মাবলী বর্ণিত হয়েছে। তৃতীয় ভাগে সাক্ষ্য উপস্থাপন ও বাধা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, যার মধ্যে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও জেরার বিধান অন্তর্ভুক্ত। আইনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে: মৃত ব্যক্তির বিবৃতির প্রাসঙ্গিকতা, পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তির অগ্রহণযোগ্যতা, এবং ইলেকট্রনিক সাক্ষ্যের প্রাসঙ্গিকতা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংশোধনী। আইনটি ১৮৭২ সালে প্রণীত হলেও এখনও বলবৎ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি।